আমার এই সাইটটিতে আপনাদের স্বাগতম। এটা একটা ইসলামিক সাইট। টাইপিং সংশোধনে যোগাযোগ :- 01747031921.01612031921
Saturday, April 18, 2015
→ কিয়ামতের সামান্য দৃশ্য ←
মানুষের হায়াত মউত আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত। যার যত দিন হায়াত আছে সে তত দিন পৃথিবীতে বসবাস করবে। আবার যার যেখানে যে অবস্থায় মৃত্যু নির্ধারিত আছে তাকে সেখানে সে অবস্থায় মৃত্যু বরণ করতে হবে। এ ব্যাপারে মানুষের কোন হাত নেই। কিন্তু পৃথিবীতে কোন কোন সময়ে মানুষের এমন অবস্থায় মৃত্যু ঘঠে যা বিভেক বান সকলের হ্রিদয়কে নাড়া দিয়ে যায়। ঘঠনার আকস্মিকতায় বিস্ময়ে বিমুঢ় হয়ে পড়ে অনেকেই। নিজের অজান্তেই চোখের কোনা থেকে তপ্ত অশ্রু ঘড়িয়ে পড়ে। ধৈরয ধারন করা অতি কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও সবকিছু মেনে নিতে হয়। কিন্তু হ্রিদয়ে যে ক্ষত হয় তা রয়ে যায়। কখন ঐ ঘঠনা স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠলে ডুকরে কেদে ওঠে মন। এমনই বিষয় তুলে ধরতে নিম্নের ঘঠনার অবতারনা। আমরা সাগর কুলের মানুষ। বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাত ও প্রতিকুলতা সহ্য করেই আমাদের বেচে থাকা। বিপদ মাথায় নিয়ে আমাদের চলা। আমাদের বিপদ মূহুত্র এর একটি হ্রদয় বিদারক সত্য ঘঠনা আমি ব্যাক্ত করতে যাচ্ছি। আমি তখন তরুন ছিলাম। একদিন দেখি আকাশে খুব মেঘ। ভাবলাম ঝড় হতে পারে। পরিবারের সবাইকে হুশিয়ার করে দিলাম। সবাই বাইরে দাড়িয়ে আছি। হটাত দেখি সাগরের দিক থেকে বিরাট জলোচ্ছাস ৩৫-৪০ ফুটের বেশি উচুঁ হয়ে ছুটে আসছে। তখন ভাবলাম বাচার আর কোন উপায় নেই। সবাইকে জোড়ে আকরে ধরেছিলাম ৭-৮ বছরের একটি ছেলে আমার কাধেঁ ছিল। পানি এতো জুড়ে দাক্কা দিল যে ছেলেটা ছাড়া আর সবাই হাড়িয়ে গেল। তখন আমরা অনেক পানির নীচে। পানি আমাদেরকে অনেক দুরে নিয়ে গেছে। যখন পানির উপরে উঠলাম তখন কোথাও কোন ঠাই নেই। কোথাও কোন গাছ বা উচুঁ কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। ছেলেটা তখন কাধঁে গলা ধরে আছে। অকে বললাম আব্বা তুমি দুহাতে আমার গলা জড়িয়ে ধর, ছেড়না যেন! তাহলে ডুবে যাবে। ছেলেটি কাদছে আর বলছে, আব্বা তুমি আমাকে ফেলে দিও না। তাহলে আমি ডুবে যাবো। তখন আবার ডেউ চলছে ২-৩ ফুট উচু হয়ে। আমরা সেই ডেউয়ে ডুবে যাচ্ছি। পানি খেয়ে আবার উপরে উঠছি। ছেলেকে কাধেঁ নিয়ে আধা ঘন্টার মত খুব কষ্টে সাতার কাটলাম। কোথাও কোন ঠাই দেখা যায় না। তখন ভাবছি আর বোধ হয় বাচতে পারবোনা। জীবন যায় যায় অবস্থা। মনে মনে ভাবছিলাম ছেলেটা যদি গলা ছেড়ে ডুবে যেত তাহলে হয়তো নিজে বাচতাম। পরে কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বলেদিলাম, তুই আমার গলা ছেড়ে দেয়। ছেলে তখন কেদেঁ ফেলল। আর কাদতে কাদতে বলল আব্বা, তুমি আমাকে ছেড়ে দিওনা আমি ডুবে যাবো। বার বার বলার পরেও যখন ছেলেটি গলা ছাড়ছে না তখন আমি হাত ধরে টান দিই। ছেলেটি আর জুড়ে কাদেঁ ও গলা জড়িয়ে কাদেঁ। আমরা দুজনের কেউ মরতে চাইনা। আবার কেউ বাচতেও পারছি না। ( এমন পরিস্থিতিতে আপনি আপনার সন্তানকে নিয়ে কল্পনা করুনতো, কেমন লাগে।) এটা ছিল মৃত্যুর পূর্বের বয়াবহ অবস্থা। ছেলের কান্নাতে আমার আর মায়া হলনা। আমি ওর হাত টেনে কামড়িয়ে ধরলে, সে আমার গলা ছেড়ে দেয়। সাথে সাথে ছেলেটি ডুবে যায়। পানির অনেক নীচে চলে যায়। তখন মনে বললাম বেচে গেছি। এর মাত্র পাচঁ মিনিট পর আমার পায়ে উচুঁ গাছের ডাল লাগলো। আমি তার উপরে দাড়ালাম। সাথে সাথে ছেলেটির হ্রদয় বিদীর্ণ কারী কান্না জড়িত কথা কানে ভেসে আসলো। চোখে বাধ ভাঙ্গা অশ্রু নেমে এল। তখ ভাবছি এইতো ঠাই পেলাম তবে কেন আমার ছেলেটাকে পানিতে ফেলে দিলাম। একি করলাম আমি। এইটুকু সময় আমি থাকে ধরে রাখতে পারলাম না। কত বড় ভুল হয়ে গেল। আমি সেখানে দাড়িয়ে জায়গাটাও বুঝতে পারছি। পানি সরে গেলে ওখানে লাশ পাওয়া যাবে। দেড় দিন পর পানি সরে গেল আমি গাছে ছিলাম। একটু ক্ষুধাও লাগেনি। ঘুম ও আসেনি। তারপর ছেলের সেখানে লাশ পেয়ে আর কষ্ট হল। যে কষ্ট আমি আজও বুলতে পারছিনা। আমার এখন কয়েকটা ছেলে মেয়ে। বয়স ৬০ বছর। তবুও ঐ স্মৃতি আমায় পাগল করে দেয়। তাই মাঝে মাঝে ভাবি,দুনিয়ায় এ অবস্থা হলে কিয়ামতের দিন কী অবস্থা হবে? যেখানে কোন দিন মরন হবে না। কেউ কাউকে সাহায্য করবে না। দুনিয়ার এই ক্ষনস্থায়ী জীবনে মানুষ নিজেকে বাচাতে যদি কলিজার টুকরো প্রানাদিক প্রিয় সন্তানকে ছুড়ে দিতে পারে তাহলে কিয়ামতের ভয়াবহতায় মানুষ কী করবে সেটা চিন্তার বিষয়। যে দিবসের বিবরণ দিতে মহান আল্লাহ বলেন যেদিন ঐ বিকট ধ্বনী আসবে সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার নিজের ভাই হতে, তার মাতা, পিতা ও তার স্ত্রী সন্তান হতে, সেদিন তাদের প্রত্যেকের একটি চিন্তা থাকবে যা তাকে ব্যাতি ব্যাস্ত করে রাখবে। (আবাসা ৩৩-৩৭) অতএব সচেতন মানুষ মাত্রই ঐ জীবনের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহন করা আবশ্যক। পার্থিব জীবনে সঠিক প্রস্তুতি তথা সৎ আমল করতে না পারলে পরকালীন জীবনে কোন আপনজন কাজে আসবে না। বরং সেদিন সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকবে। একান্ত আপনজন ও পরিচয় দিবে না। কিয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে পরিত্রানের জন্য আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করেন। আমীন। [ উপরোক্ত কথা গুলো লিখে পাঠিয়েছেন আমার এক বন্ধু ময়মনসিংহ থেকে]
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment