আমার এই সাইটটিতে আপনাদের স্বাগতম। এটা একটা ইসলামিক সাইট। টাইপিং সংশোধনে যোগাযোগ :- 01747031921.01612031921
Monday, April 20, 2015
→ সর্বস্ব হারিয়েও সতীত্ব রক্ষা ←
সতী সাধ্বী নারীর সম্ভ্রম হরণ করা যায় না। তার সম্মান নষ্ট করা যায় না। সতীত্ব ও সম্ভ্রম রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে সে জীবন দিতেও কুন্ঠিত হয় না। খাত্তাবী তার বিখ্যাত গ্রণথ "আকাশের ইনসাফ" এ একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন, যা নিম্নরূপ ; চল্লিশ বছর পূর্বে বাগদাদে এক কশাই ছিল। ফজরের আগেই সে দোকানে চলে যেত। সে ছাগল মেষ যবেহ করে সন্ধার আগেই বাড়ি ফিরে যেত। একদা ছাগল যবেহ করে বাড়ি ফিরছিল। তখন রাতের আধার কাটেনি। সে দিন অনেক রক্ত লেগেছিল তার জামা কাপড়ে। পথিমধ্যে সে এক গলির ভিতর থেকে গোঙ্গানি শুনতে পেল। সে গোঙ্গানি টা লক্ষ করে দ্রুত এগিয়ে গেল। হটাত সে একটা দেহের সাথে দাক্কা খেয়ে পড়ে গেল। একজন আহত লোক পড়ে আছে মাটিতে। যখম ঘোরতর, বাচাতে হলে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন। তখনো দর দর করে রক্ত বের হচ্ছে। তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ছুরিটা তখন দেহে গেতে আছে। দ্রুত সে ছুরিটা ঝটকা টানে বের করে ফেলল। তারপর লোকটিকে কাধে তুলে নিল। কিন্তু লোকটি পথে এবং তার কাধে মারা গেল। এর মধ্যেই লোকজন জড়ো হল। কশাইয়ের হাতে ছুরি। সদ্য মৃত লোকটির গায়ে তাজা রক্ত। এসব দেখে লোকজনের স্থীর ধারনা হল যে, সেই ঘাতক। অগত্যা তাকে হন্তারক হিসেবে অভিযুক্ত হতে হল এবং তাকে মৃত্যু দন্ডে আদেশ দেয়া হল। যখন তাকে ক্বিছাছ এর জায়গায় আনা হল এবং মৃত্যু যখন অবধারিত। তখন সে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলে উঠল, হে উপস্থিতি জনতা! আমি এই লোকটিকে মোটেই হত্যা করিনি। তবে আজ থেকে বিশ বছর আগে আমি অপর একটি হত্যা কান্ড সংগঠিত করেছিলাম। আজ যদি আমার মৃত্যু দন্ড কার্যকর করা হয়, তবে এই ব্যাক্তির হত্যাকান্ডের জন্য নয়। বরং সেই হত্যা কান্ডের জন্য হতে পারে। অতঃপর সে বিশ বছর হত্যাকান্ডের বিবরণ শুরু করলো। আজ থেকে বিশ বছর আগে আমি ছিলাম এক টগবগে যুবক। নৌকা চালাতাম। লোকজনকে পারাপার করতাম। একদিন একধনবতি যুবতী তার মাকে নিয়ে আমার নৌকায় পার হল। পরদিন আবার তাদেরকে পার করলাম। এভাবে প্রতিদিন আমি তাদেরকে আমার নৌকায় পার করতাম। এপারাপারের সুবাদে যুবতী মেয়েটার সাথে আমার আন্তরিকতা গড়ে উঠল। অপর ধীকে দীরে দীরে আমরা একে অপরকে ভাল বাসতে শুরু করলাম। একসময় আমি তার পিতার নিকট বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে গেলাম। কিন্তু আমার মত দরীদ্র একমাঝির কাছে বিয়ে দিতে তিনি অস্বীকার করলেন। এরপর আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। সেও এদিকে আর আসতো না, সম্ভবত মেয়েটির বাবা নিষেধ করে দিয়েছিল। আমি অনেক চেষ্টা করেও ভুলতে পারলাম না। এভাবে কেটে গেল ২-৩ বছর। একদিন আমি নৌকা নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষা করছিলাম। এমন সময় একমহিলা ছোট একটি মেয়েকে নিয়ে গাটে উপস্থিত হল এবং আমাকে নদী পার করে দিতে অনুরোধ করলো। আমি তাকে নিয়ে রওয়ানা হলাম। মাঝ নদীতে এসে তাকালাম তার চেহার দিকে। চিনতে দেরী হল না যে, এ আমার সেই প্রেয়সী। এর পিতা আমাদের মাঝে বিচ্ছেদের পর্দা টেনে না দিলে সে আজ আমার স্ত্রী থাকতো। আমি তাকে দেখে খুশী হলাম। বিভিন্ন মধুময় স্মৃতির ডালি একে একে তার সামনে মেলে ধরতে লাগলাম। সে প্রতি উত্তর করছিল খুব সতর্কতার সাথে এবং বিনয়ের সাথে। পরক্ষনেই সে জানালো যে, সে বিবাহিতা এবং সঙ্গের শিশুটি তার সন্তান। আমার মন বড় অস্থির হয়ে গেল। আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রন রাখতে পারলাম না। একটা অশুভ ইচ্ছা আমায় তাড়া করলো। এক পর্যায় যৌন পিপাসা নিবৃত্ত করার জন্য আমি তার উপর চাপা চাপি শুরু করলাম। সে আমাকে মিনতি করে বলল, আল্লাহকে ভয় কর! আমার সর্বনাশ করনা। আমি মানলাম না। আমি ফিরলাম না। তখন অসহায় নারীটি শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে আমাকে প্রতিরোধের চেষ্টা করতে লাগলো। তার শিশু কন্যা টি চিৎকার করতে লাগলো। আমি তখন তার শিশু কন্যা টিকে শক্ত হাতে ধরে বললাম, তুমি আমার আহবানে সাড়া না দিলে আমি তোমার সন্তানটিকে পানিতে ডুবিয়ে মারবো। তখন সে কেদেঁ উটলো। হাত জোর করে মিনতি জানাতে লাগলো। কিন্তু আমি এমনই অমানুষে পরিনত হলাম যে, নারীর অশ্রু ও কান্না কিছুই আমার প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করার চেয়ে মুল্যবান মনে হলনা। আমি নিষ্ঠুর ভাবে কন্যা সন্তানটির মাথা পানিতে চেপে ধরলাম। মরার উপক্রম হতেই আবার বের করে আনলাম। বললাম, জলদি রাযী হও। নইলে একটু পরেই এর লাশ দেখবে। কিন্তু যুগপৎ সন্তানের মায়ায় এর সতীত্বের ভালাবাসায় বিলাপ করে কাদতেঁ লাগলো, যা আমার কাছে ছিল অর্থহীন ও মুল্যহীন। আমি আবার মেয়েটিকে চেপে ধরলাম। শিশুটি হাত পা নাড়ছিল। জীবনের বেলা ভুমিতে আরো অনেক দিন হাটার স্বপ্নে দ্রুত হাত পা ছুড়ছিল। কিন্তু ওর জানা ছিলনা কেমন হিংস্রের হাতে পড়েছে সে। এবার আমি তার মাথাটা তুলে আনলাম না। ফল যা হবার তাই হল। কিছুক্ষনের মধ্যেই শিশুটি নিথর নিস্তব্ধ হয়ে গেল। আমি এবার থাকালাম তার দিকে। কিন্তু মেয়ের করুন মৃত্যু ও তাকে নরম করতে পারলো না। সে তার সিদ্ধান্তে অনড়, অবিচল। তার দৃষ্টি যেন বলছিল, সন্তান গেছে প্রয়োজনে আমি যাব। জান দেব, তবু মান দেবনা। কিন্তু আমার মানুষ সত্তা হারিয়ে গিয়েছিল। বিভেক সত্তা গুমিয়েছিল গভীর সুপ্তির কোলে। আমার মাঝে রাজত্ব করছিল আমার পশু সত্তা। আমি নেকড়ের মত তার দিকে এগিয়ে গেলাম। চুলকে মুষ্টি বদ্ধ করলাম। তার পর তাকে ও পানিতে চেপে ধরলাম। বললাম, ভেবে দেখ জলদি, জীবনে মায়া যদি কর তবে আবার ভাব। সে ঘৃনা ভরে না করে দিল। আমি ও তাকে চেপে ধরলাম। একসময় আমার হাত ক্লান্ত হয়ে এল।সাথে সাথে তার দেহটা ও নিথর হয়ে গেল। আমি ওকে পানিতে ফেলে ফিরে এলাম। খবর আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলো না। মহান সেই সত্তা, যিনি বান্দাকে সুযোগ দেন। কিন্তু ছুড়ে ফেলে দেন না। এই করুন কাহীনী শুনে উপস্তিত সবার দৃষ্টি যাপসা হয়ে এল। এরপর তার শিরোশ্চেদ করা হল। এ ঘঠনার উজ্জল প্রমান যে, সতীত্ব ও স্মভ্রম। রক্ষায় সতী সাদ্ধী নারীরা কত আপোষহীন? নিজের মেয়ে নিজের চোখের সামনে জীবন দিল।, তবুও সে আপোষ করলনা। নিজের জীবন দিল। তবুও নিজের মান সে বিলিয়ে দিলনা তার সতীত্ব ও সম্ভ্রমের গায়েঁ একটা কাটা ও ফুটতে দিলনা।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment