Thursday, April 16, 2015

→ নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস ←

একবনে এক কাক বাস করতো। কাকটি তার জীবন নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট ছিলো। কিন্তু একদিন সে একটি রাজহাঁস দেখতে পেল...... কিন্তু কথায় আছে, " নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস ওপারেতে সর্ব সুখ আমার ও বিশ্বাস"। কাকটি ভাবলো আহা! রাজহাঁস কতইনা সুন্দর! নিশ্চয়ই সে এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী পাখী। কাকটি তার এই ভাবনার কথা রাজহাঁস কে জানালো। রাজহাঁস জবাব দিলো " আসলে আমিও ভাবতাম, আমি এখানকার সবচেয়ে সুখী পাখি; যতক্ষন না আমি একটি টিয়াকে দেখলাম.... টিয়ার গায়ে আছে দুধরনের রং। তাই আমি এখন মনে করি সৃষ্টির মাঝে টিয়াই একমাত্র সুখী পাখি। কাক এরপর গেল টিয়ার কাছে। টিয়া তাকে বললো আমিই ছিলাম সবচেয়ে সুখী, যতক্ষন না আমি ময়ূরকে দেখতে পেলাম...... আমার গায়ে তো মাত্র দুটি রং, আর ময়ূরের শরীরে কত রংয়েরই না সমাহার। কাক এর পর গেল চিড়িয়া খানায় ময়ূরের সাথে দেখা করতে। সেখানে সে দেখতে পেল ময়ূরকে দেখতে শত মানুষ ভিড় করছে। সবাই চলে যাওয়ার পর, কাক ময়ুরের কাছে গেলো। - ও ময়ুর তুমি দেখতে কতইনা সুন্দর! তোমাকে দেখতে প্রতিদিন হাজার মানুষ ভিড় জমায়। আর আমি, আমাকে দেখলে মানুষ দুর দুর করে তাড়িয়ে দেয়। তুমি নিশ্চয় জগতের সবচেয়ে সুখী পাখি? আমিও ভাবতাম, আমি বোধহয় এই গ্রহের সবচেয়ে সুখী ও সুন্দর পাখী। কিন্তু এই সৌন্দর্য এর কারনে আমায় খাচায় বন্দী করে রাখা হয়েছে। আমি এই চিড়িয়া খানা খুব ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং বুঝতে পেরেছি, কাকই হল এমন একটি পাখি যাকে কখনো খাচায় বন্দী করে রাখা হয়না। তাই গত ক'দিন থেকে ভাবছি, ইশ - আমি যদি কাক হতাম তাহলে তাহলে যেখানে খুশী বেড়াতে পারতাম। এটাই হল আমাদের সমস্যা, আমরা অহেতুক অন্যদের সাথে নিজেদের তুলনা করি আর অযথা কষ্ট পাই। আল্লাহ আমাদের যা দিয়েছেন আমরা তার কোন গুরোত্ব দেই না। এভাবে আমরা সকলের দুঃখের দোষ্ট চক্রে পড়ে ঘুরপাক খেতে থাকি। তাই সৃষ্টা আপনাকে যা দিয়েছেন, তার গুরোত্ব দিয়ে, সুখী হওয়ার গোপন রহস্য টা বুঝতে শিখুন, আর অহেতুক অন্যদের সাথে তুলনয় নিয়ে নিজে অসুখী হওয়াকে দুরে ছুড়ে ফেলে দিন।

No comments:

Post a Comment