Sunday, July 26, 2015

← নিজের থেকে গুনি কথা →

সব কাজের পিছনে না লেগে একটি কাজকেই প্রাধান্য দিন, কাজটিও সহজ হবে, আর সফল তো হবে নিশ্চয়। মহাজ্ঞানীরা সব কাজ একসাথে করে না বরং একটিতে সফল হলে তার পর অন্য কাজে নিয়োজিত করে নিজেকে। কোন কাজকে ছোট করে দেখবেন না, আর সময়ের মুল্য দিন। ভাগ্য কেউ পালটে দিতে পারে না যদি না সে নিজে নিজের ভাগ্য বদলাতে পরিশ্রম করে। পরিশ্রম করে দুটাকা রোজকার করলেও এটা গৌরবের অন্যের হাজার টাকা দানের চেয়ে। নিজের আত্মবিশ্বাস কে কাজে লাগান, পারবেন না বলে থেমে থাকবেন না, বরং পারবেন বলেই এগিয়ে যান, তখন আপনার আত্মবিশ্বাসের বলেই বিজয় হবেন। কাউকে হেয় করার চেষ্টা করবেন না, তাহলে কোন একসময় নিষচয় আসবে সমাজ আপনাকে হেয় করবে। ভালো কাজে ছোটদের উৎসাহ দিন, তখন দেখবেন আপনার ভালো কাজে অন্যরা প্রশংসা করছে। বাবর চৌধুরী

Thursday, May 28, 2015

→পবিত্র শবে বরাত এর ফযিলত ←

শবে বরাত এর বিশ্লেষণ :- আরবী ১২মাসের অষ্টম মাস তথা শাবানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতটি কোরানের ভাষায় "লাইলাতুল মুবারাকাহ"। আর হাদীসের ভাষায় অর্ধ শাবান রজনী, তাফসীরের ভাষায় মুক্তীর রজনী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আর আমাদের উপমহাদেশে যাকে শবে বরাত বলে আমরা পরিচিত যেটা ফারসি ভাষা থেকে উদ্ভুত। যা শব বা রাত ও বরাত বা পবিত্রতা, নাযাত, মুক্তী, ত্রান ইত্যাদি। অর্থাৎ পবিত্র মুক্তী ও পরিত্রানের রজনী। মুফাসসের গন এ রাতের ১২ টি নাম দিয়েছেন- পাপ মুক্তীর রজনী, বরকতের রজনী, বন্টনের রজনী, গুনাহের কাফফারা রাত, দোয়া কবুলের রাত, ফেরেশতা দের ঈদের রাত, প্রতিদানের রাত, সুপারিশের রাত,ক্ষমার রাত, সম্মানের রাত, পুন্যের পাল্লা ভারির রাত, দোযখ থেকে মুক্তীর রাত। আল্লামা কুরতবী তার গ্রন্থে বলেন এ রাতের ৪ টি নাম রয়েছে- ১. লাইলাতুল বরাত, ২. লাইলাতুল মুবারাকাহ, ৩. লাইলাতুস সাকী, ৪. লাইলাতুল ক্বাদ্রী। এছাড়া তাফসীরে রুহুল মায়ানীর ২৪ শ খন্ড ১৭৪ পৃ: উল্লেখ্য রয়েছে এ রাতে সারা বছরের বাজেট জীবিত মৃত দের তালীকা এবং হাজীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। উক্ত সংখ্যা থেকে একজন বাড়েও না কমেও না। হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন নবী সা: বলেন মধ্য শাবানের রাত্রীতে মহান আল্লাহ রহমতের ভান্ডার নিয়ে তার সকল সৃষ্টির প্রতি এক বিশেষ ভূমিকায় আবিভূত হন, এবং এ রাত্রীতে মুশরীক এবং হিংসুক ব্যাক্তি ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন, হযরত আবু মুসা আল আশয়ারী (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুল [সা:] ইরশাদ করেছেন মহান আল্লাহ নিসফে শাবানের রাতে আবিভূত হন। সেই রাত্রীতে মুশরীক অথবা হিংসুক ছাড়া সকলকেই ক্ষমা করে দেন। এ হাদীস টি শবে বরাতের আরেকটি হাদীস মুবাশশার বিল জান্নাত হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন নিসফে শাবান রাত তথা শবে বরাত যখন আগমন করে তখন আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে অবতরন করেন, অতঃপর তিনি তার বান্দাহদের ক্ষমা করে দেন। তবে যে ব্যাক্তি শিরক ও আপন ভাইয়ের সাথে হিংসা বিদ্বেশ করে তাকে ক্ষমা করেন না। হযরত আলী ইবনে আবী তালীব (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুল সাঃ বলেছেন যখন শাবান মাসের মধ্য রাত্রীর আগমন ঘটে তখন তোমরা সেই রাত্রে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত কর এবং দিনের বেলা রোজা রাখো। কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা সেদিন সূর্যাস্তের পর প্রথম আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন কোন প্রার্থনাকারী কী আছো? আমি থাকে ক্ষমা করবো, কোন রিযিক তালাশকারী আছো কী? আমি আজ তাকে রিযিক দিবো। কোন বিপদগ্রস্ত আছো কী? আমি আজ থাকে বিপদ থেকে মুক্ত করে দিবো। এভাবে ভোর পর্যন্ত মহান আল্লাহর পক্ষ হতে ঘোষনা অভ্যাহত থাকে। তাই কোরান ও হাদীসের আলোকে শবে বরাতের আমল করা আমাদের একান্ত উচিত।

Saturday, May 16, 2015

→ লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজ রজনী প্রসঙ্গে ←

লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রজনী যা সচরাচর শবে মেরাজ নামে আখ্যায়িত। ইসলাম ধর্ম মতে যে রাতে মহানবী (সা:) অলৌকিক উপায়ে উর্ধ্বাকাশে আরোহন করেছিলেন এবং মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করেন। মুসলমান রা এবাদত বন্দেগীর মধ্য দিয়ে এ রাতটি উদযাপন করে। ইসলামে মেরাজের গুরত্ব অপরিসীম, কেননা এই মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্বের দ্বীতিয় স্তম্ব অর্থাৎ নামাজ অত্যাবশ্যক বা নির্ধারণ করা হয় এবং দৈনিক পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ এর বিধান নির্দিষ্ট করা হয়। ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী মোহাম্মদ (সা) এর নবুওয়াতের একাদ্বশ বৎসরের (৬২০ খ্রী) রজব মাসের ২৬ তারিখের দিবাগত নবী মোহাম্মদ (সা:) প্রথমে কাবা শরীফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকশায় গমন করেন এবং সেখানে তিনি নবীদের জামাতে ইমামতি করেন। অতঃপর তিনি বোরাকে (বিশেষ বাহন) আসীন হয়ে উর্ধ্বালোকে গমন করেন। উর্ধ্বাকাশে সিদরাতুল মুনতাহায় তিনি আল্লাহর সাক্ষাত লাভ করেন। এই সফরে হযরত জিবরাঈল (আ) তার সফর সঙ্গী ছিলেন। কোর আন শরীফের সুরা বনী ইসরাঈল এর প্রথম আয়াতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে " সুবহানাল্লাযী আস্রা বি আবদিহি লাইলাম মিনাল মাসজিদিল হারামী ইলাল মাসজিদিল আকসা" বঙ্গানুবাদ : " পবিত্র সেই মহান সত্বা, যিনি তাহার এক বান্দাহ ( মোহাম্মদ সা:) কে মসজিদে হারাম ( কাবাঘর) হইতে মসজিদে আকশা ( বাইতুল মোকাদ্দাস) পর্যন্ত পরিভ্রমন করাইয়াছেন। ইহার মধ্যে তাহাকে অসংখ্য নির্দেশনা বলী দেখানো হইয়াছে।

Monday, April 20, 2015

→ সর্বস্ব হারিয়েও সতীত্ব রক্ষা ←

সতী সাধ্বী নারীর সম্ভ্রম হরণ করা যায় না। তার সম্মান নষ্ট করা যায় না। সতীত্ব ও সম্ভ্রম রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে সে জীবন দিতেও কুন্ঠিত হয় না। খাত্তাবী তার বিখ্যাত গ্রণথ "আকাশের ইনসাফ" এ একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন, যা নিম্নরূপ ; চল্লিশ বছর পূর্বে বাগদাদে এক কশাই ছিল। ফজরের আগেই সে দোকানে চলে যেত। সে ছাগল মেষ যবেহ করে সন্ধার আগেই বাড়ি ফিরে যেত। একদা ছাগল যবেহ করে বাড়ি ফিরছিল। তখন রাতের আধার কাটেনি। সে দিন অনেক রক্ত লেগেছিল তার জামা কাপড়ে। পথিমধ্যে সে এক গলির ভিতর থেকে গোঙ্গানি শুনতে পেল। সে গোঙ্গানি টা লক্ষ করে দ্রুত এগিয়ে গেল। হটাত সে একটা দেহের সাথে দাক্কা খেয়ে পড়ে গেল। একজন আহত লোক পড়ে আছে মাটিতে। যখম ঘোরতর, বাচাতে হলে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন। তখনো দর দর করে রক্ত বের হচ্ছে। তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ছুরিটা তখন দেহে গেতে আছে। দ্রুত সে ছুরিটা ঝটকা টানে বের করে ফেলল। তারপর লোকটিকে কাধে তুলে নিল। কিন্তু লোকটি পথে এবং তার কাধে মারা গেল। এর মধ্যেই লোকজন জড়ো হল। কশাইয়ের হাতে ছুরি। সদ্য মৃত লোকটির গায়ে তাজা রক্ত। এসব দেখে লোকজনের স্থীর ধারনা হল যে, সেই ঘাতক। অগত্যা তাকে হন্তারক হিসেবে অভিযুক্ত হতে হল এবং তাকে মৃত্যু দন্ডে আদেশ দেয়া হল। যখন তাকে ক্বিছাছ এর জায়গায় আনা হল এবং মৃত্যু যখন অবধারিত। তখন সে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলে উঠল, হে উপস্থিতি জনতা! আমি এই লোকটিকে মোটেই হত্যা করিনি। তবে আজ থেকে বিশ বছর আগে আমি অপর একটি হত্যা কান্ড সংগঠিত করেছিলাম। আজ যদি আমার মৃত্যু দন্ড কার্যকর করা হয়, তবে এই ব্যাক্তির হত্যাকান্ডের জন্য নয়। বরং সেই হত্যা কান্ডের জন্য হতে পারে। অতঃপর সে বিশ বছর হত্যাকান্ডের বিবরণ শুরু করলো। আজ থেকে বিশ বছর আগে আমি ছিলাম এক টগবগে যুবক। নৌকা চালাতাম। লোকজনকে পারাপার করতাম। একদিন একধনবতি যুবতী তার মাকে নিয়ে আমার নৌকায় পার হল। পরদিন আবার তাদেরকে পার করলাম। এভাবে প্রতিদিন আমি তাদেরকে আমার নৌকায় পার করতাম। এপারাপারের সুবাদে যুবতী মেয়েটার সাথে আমার আন্তরিকতা গড়ে উঠল। অপর ধীকে দীরে দীরে আমরা একে অপরকে ভাল বাসতে শুরু করলাম। একসময় আমি তার পিতার নিকট বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে গেলাম। কিন্তু আমার মত দরীদ্র একমাঝির কাছে বিয়ে দিতে তিনি অস্বীকার করলেন। এরপর আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। সেও এদিকে আর আসতো না, সম্ভবত মেয়েটির বাবা নিষেধ করে দিয়েছিল। আমি অনেক চেষ্টা করেও ভুলতে পারলাম না। এভাবে কেটে গেল ২-৩ বছর। একদিন আমি নৌকা নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষা করছিলাম। এমন সময় একমহিলা ছোট একটি মেয়েকে নিয়ে গাটে উপস্থিত হল এবং আমাকে নদী পার করে দিতে অনুরোধ করলো। আমি তাকে নিয়ে রওয়ানা হলাম। মাঝ নদীতে এসে তাকালাম তার চেহার দিকে। চিনতে দেরী হল না যে, এ আমার সেই প্রেয়সী। এর পিতা আমাদের মাঝে বিচ্ছেদের পর্দা টেনে না দিলে সে আজ আমার স্ত্রী থাকতো। আমি তাকে দেখে খুশী হলাম। বিভিন্ন মধুময় স্মৃতির ডালি একে একে তার সামনে মেলে ধরতে লাগলাম। সে প্রতি উত্তর করছিল খুব সতর্কতার সাথে এবং বিনয়ের সাথে। পরক্ষনেই সে জানালো যে, সে বিবাহিতা এবং সঙ্গের শিশুটি তার সন্তান। আমার মন বড় অস্থির হয়ে গেল। আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রন রাখতে পারলাম না। একটা অশুভ ইচ্ছা আমায় তাড়া করলো। এক পর‍্যায় যৌন পিপাসা নিবৃত্ত করার জন্য আমি তার উপর চাপা চাপি শুরু করলাম। সে আমাকে মিনতি করে বলল, আল্লাহকে ভয় কর! আমার সর্বনাশ করনা। আমি মানলাম না। আমি ফিরলাম না। তখন অসহায় নারীটি শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে আমাকে প্রতিরোধের চেষ্টা করতে লাগলো। তার শিশু কন্যা টি চিৎকার করতে লাগলো। আমি তখন তার শিশু কন্যা টিকে শক্ত হাতে ধরে বললাম, তুমি আমার আহবানে সাড়া না দিলে আমি তোমার সন্তানটিকে পানিতে ডুবিয়ে মারবো। তখন সে কেদেঁ উটলো। হাত জোর করে মিনতি জানাতে লাগলো। কিন্তু আমি এমনই অমানুষে পরিনত হলাম যে, নারীর অশ্রু ও কান্না কিছুই আমার প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করার চেয়ে মুল্যবান মনে হলনা। আমি নিষ্ঠুর ভাবে কন্যা সন্তানটির মাথা পানিতে চেপে ধরলাম। মরার উপক্রম হতেই আবার বের করে আনলাম। বললাম, জলদি রাযী হও। নইলে একটু পরেই এর লাশ দেখবে। কিন্তু যুগপৎ সন্তানের মায়ায় এর সতীত্বের ভালাবাসায় বিলাপ করে কাদতেঁ লাগলো, যা আমার কাছে ছিল অর্থহীন ও মুল্যহীন। আমি আবার মেয়েটিকে চেপে ধরলাম। শিশুটি হাত পা নাড়ছিল। জীবনের বেলা ভুমিতে আরো অনেক দিন হাটার স্বপ্নে দ্রুত হাত পা ছুড়ছিল। কিন্তু ওর জানা ছিলনা কেমন হিংস্রের হাতে পড়েছে সে। এবার আমি তার মাথাটা তুলে আনলাম না। ফল যা হবার তাই হল। কিছুক্ষনের মধ্যেই শিশুটি নিথর নিস্তব্ধ হয়ে গেল। আমি এবার থাকালাম তার দিকে। কিন্তু মেয়ের করুন মৃত্যু ও তাকে নরম করতে পারলো না। সে তার সিদ্ধান্তে অনড়, অবিচল। তার দৃষ্টি যেন বলছিল, সন্তান গেছে প্রয়োজনে আমি যাব। জান দেব, তবু মান দেবনা। কিন্তু আমার মানুষ সত্তা হারিয়ে গিয়েছিল। বিভেক সত্তা গুমিয়েছিল গভীর সুপ্তির কোলে। আমার মাঝে রাজত্ব করছিল আমার পশু সত্তা। আমি নেকড়ের মত তার দিকে এগিয়ে গেলাম। চুলকে মুষ্টি বদ্ধ করলাম। তার পর তাকে ও পানিতে চেপে ধরলাম। বললাম, ভেবে দেখ জলদি, জীবনে মায়া যদি কর তবে আবার ভাব। সে ঘৃনা ভরে না করে দিল। আমি ও তাকে চেপে ধরলাম। একসময় আমার হাত ক্লান্ত হয়ে এল।সাথে সাথে তার দেহটা ও নিথর হয়ে গেল। আমি ওকে পানিতে ফেলে ফিরে এলাম। খবর আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলো না। মহান সেই সত্তা, যিনি বান্দাকে সুযোগ দেন। কিন্তু ছুড়ে ফেলে দেন না। এই করুন কাহীনী শুনে উপস্তিত সবার দৃষ্টি যাপসা হয়ে এল। এরপর তার শিরোশ্চেদ করা হল। এ ঘঠনার উজ্জল প্রমান যে, সতীত্ব ও স্মভ্রম। রক্ষায় সতী সাদ্ধী নারীরা কত আপোষহীন? নিজের মেয়ে নিজের চোখের সামনে জীবন দিল।, তবুও সে আপোষ করলনা। নিজের জীবন দিল। তবুও নিজের মান সে বিলিয়ে দিলনা তার সতীত্ব ও সম্ভ্রমের গায়েঁ একটা কাটা ও ফুটতে দিলনা।

Saturday, April 18, 2015

→ কিয়ামতের সামান্য দৃশ্য ←

মানুষের হায়াত মউত আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত। যার যত দিন হায়াত আছে সে তত দিন পৃথিবীতে বসবাস করবে। আবার যার যেখানে যে অবস্থায় মৃত্যু নির্ধারিত আছে তাকে সেখানে সে অবস্থায় মৃত্যু বরণ করতে হবে। এ ব্যাপারে মানুষের কোন হাত নেই। কিন্তু পৃথিবীতে কোন কোন সময়ে মানুষের এমন অবস্থায় মৃত্যু ঘঠে যা বিভেক বান সকলের হ্রিদয়কে নাড়া দিয়ে যায়। ঘঠনার আকস্মিকতায় বিস্ময়ে বিমুঢ় হয়ে পড়ে অনেকেই। নিজের অজান্তেই চোখের কোনা থেকে তপ্ত অশ্রু ঘড়িয়ে পড়ে। ধৈরয ধারন করা অতি কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও সবকিছু মেনে নিতে হয়। কিন্তু হ্রিদয়ে যে ক্ষত হয় তা রয়ে যায়। কখন ঐ ঘঠনা স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠলে ডুকরে কেদে ওঠে মন। এমনই বিষয় তুলে ধরতে নিম্নের ঘঠনার অবতারনা। আমরা সাগর কুলের মানুষ। বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাত ও প্রতিকুলতা সহ্য করেই আমাদের বেচে থাকা। বিপদ মাথায় নিয়ে আমাদের চলা। আমাদের বিপদ মূহুত্র এর একটি হ্রদয় বিদারক সত্য ঘঠনা আমি ব্যাক্ত করতে যাচ্ছি। আমি তখন তরুন ছিলাম। একদিন দেখি আকাশে খুব মেঘ। ভাবলাম ঝড় হতে পারে। পরিবারের সবাইকে হুশিয়ার করে দিলাম। সবাই বাইরে দাড়িয়ে আছি। হটাত দেখি সাগরের দিক থেকে বিরাট জলোচ্ছাস ৩৫-৪০ ফুটের বেশি উচুঁ হয়ে ছুটে আসছে। তখন ভাবলাম বাচার আর কোন উপায় নেই। সবাইকে জোড়ে আকরে ধরেছিলাম ৭-৮ বছরের একটি ছেলে আমার কাধেঁ ছিল। পানি এতো জুড়ে দাক্কা দিল যে ছেলেটা ছাড়া আর সবাই হাড়িয়ে গেল। তখন আমরা অনেক পানির নীচে। পানি আমাদেরকে অনেক দুরে নিয়ে গেছে। যখন পানির উপরে উঠলাম তখন কোথাও কোন ঠাই নেই। কোথাও কোন গাছ বা উচুঁ কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। ছেলেটা তখন কাধঁে গলা ধরে আছে। অকে বললাম আব্বা তুমি দুহাতে আমার গলা জড়িয়ে ধর, ছেড়না যেন! তাহলে ডুবে যাবে। ছেলেটি কাদছে আর বলছে, আব্বা তুমি আমাকে ফেলে দিও না। তাহলে আমি ডুবে যাবো। তখন আবার ডেউ চলছে ২-৩ ফুট উচু হয়ে। আমরা সেই ডেউয়ে ডুবে যাচ্ছি। পানি খেয়ে আবার উপরে উঠছি। ছেলেকে কাধেঁ নিয়ে আধা ঘন্টার মত খুব কষ্টে সাতার কাটলাম। কোথাও কোন ঠাই দেখা যায় না। তখন ভাবছি আর বোধ হয় বাচতে পারবোনা। জীবন যায় যায় অবস্থা। মনে মনে ভাবছিলাম ছেলেটা যদি গলা ছেড়ে ডুবে যেত তাহলে হয়তো নিজে বাচতাম। পরে কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বলেদিলাম, তুই আমার গলা ছেড়ে দেয়। ছেলে তখন কেদেঁ ফেলল। আর কাদতে কাদতে বলল আব্বা, তুমি আমাকে ছেড়ে দিওনা আমি ডুবে যাবো। বার বার বলার পরেও যখন ছেলেটি গলা ছাড়ছে না তখন আমি হাত ধরে টান দিই। ছেলেটি আর জুড়ে কাদেঁ ও গলা জড়িয়ে কাদেঁ। আমরা দুজনের কেউ মরতে চাইনা। আবার কেউ বাচতেও পারছি না। ( এমন পরিস্থিতিতে আপনি আপনার সন্তানকে নিয়ে কল্পনা করুনতো, কেমন লাগে।) এটা ছিল মৃত্যুর পূর্বের বয়াবহ অবস্থা। ছেলের কান্নাতে আমার আর মায়া হলনা। আমি ওর হাত টেনে কামড়িয়ে ধরলে, সে আমার গলা ছেড়ে দেয়। সাথে সাথে ছেলেটি ডুবে যায়। পানির অনেক নীচে চলে যায়। তখন মনে বললাম বেচে গেছি। এর মাত্র পাচঁ মিনিট পর আমার পায়ে উচুঁ গাছের ডাল লাগলো। আমি তার উপরে দাড়ালাম। সাথে সাথে ছেলেটির হ্রদয় বিদীর্ণ কারী কান্না জড়িত কথা কানে ভেসে আসলো। চোখে বাধ ভাঙ্গা অশ্রু নেমে এল। তখ ভাবছি এইতো ঠাই পেলাম তবে কেন আমার ছেলেটাকে পানিতে ফেলে দিলাম। একি করলাম আমি। এইটুকু সময় আমি থাকে ধরে রাখতে পারলাম না। কত বড় ভুল হয়ে গেল। আমি সেখানে দাড়িয়ে জায়গাটাও বুঝতে পারছি। পানি সরে গেলে ওখানে লাশ পাওয়া যাবে। দেড় দিন পর পানি সরে গেল আমি গাছে ছিলাম। একটু ক্ষুধাও লাগেনি। ঘুম ও আসেনি। তারপর ছেলের সেখানে লাশ পেয়ে আর কষ্ট হল। যে কষ্ট আমি আজও বুলতে পারছিনা। আমার এখন কয়েকটা ছেলে মেয়ে। বয়স ৬০ বছর। তবুও ঐ স্মৃতি আমায় পাগল করে দেয়। তাই মাঝে মাঝে ভাবি,দুনিয়ায় এ অবস্থা হলে কিয়ামতের দিন কী অবস্থা হবে? যেখানে কোন দিন মরন হবে না। কেউ কাউকে সাহায্য করবে না। দুনিয়ার এই ক্ষনস্থায়ী জীবনে মানুষ নিজেকে বাচাতে যদি কলিজার টুকরো প্রানাদিক প্রিয় সন্তানকে ছুড়ে দিতে পারে তাহলে কিয়ামতের ভয়াবহতায় মানুষ কী করবে সেটা চিন্তার বিষয়। যে দিবসের বিবরণ দিতে মহান আল্লাহ বলেন যেদিন ঐ বিকট ধ্বনী আসবে সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার নিজের ভাই হতে, তার মাতা, পিতা ও তার স্ত্রী সন্তান হতে, সেদিন তাদের প্রত্যেকের একটি চিন্তা থাকবে যা তাকে ব্যাতি ব্যাস্ত করে রাখবে। (আবাসা ৩৩-৩৭) অতএব সচেতন মানুষ মাত্রই ঐ জীবনের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহন করা আবশ্যক। পার্থিব জীবনে সঠিক প্রস্তুতি তথা সৎ আমল করতে না পারলে পরকালীন জীবনে কোন আপনজন কাজে আসবে না। বরং সেদিন সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকবে। একান্ত আপনজন ও পরিচয় দিবে না। কিয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে পরিত্রানের জন্য আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করেন। আমীন। [ উপরোক্ত কথা গুলো লিখে পাঠিয়েছেন আমার এক বন্ধু ময়মনসিংহ থেকে]

→ পুরুষরা লজ্জা শীল ←

একদিন এক বাড়িতে স্থানীয় কয়েকজন ইসলাম প্রিয় নারী দ্বীনি আলোচনা শোনার জন্য জমায়েত হয়েছিলেন। সেখানে আলোচনার এক পর‍্যায় একজন বলেছিলেন, আজকাল মহিলাদের চেয়ে পুরুষের লজ্জা বেশি। কথা টা শেষ না করতেই একজন দাড়িয়ে ভদ্র মহিলা উঠে প্রতিবাদের সুরে বললেন আমি আপনার একথাটি মানতে পারলাম না। পুরুষ মানুষের আবার লজ্জা দেখলেন কোথায়? ওরা তো বেশরম বেলাজ..... মহিলা তখন আলোচনা বন্ধ করে বললেন, আপা আপনি কি করেন? তখন মহিলাটি বলল আমি এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি। আলোচক মহিলা তখন জানতে চাইলেন আপনার প্রতিষ্টানে কয়জন পুরুষ ও কয়জন মহিলা শিক্ষক আছেন? তখন মহিলা বলল সমান সমান। তখন তিনি বললেন, আপনি কি কোন দিন পুরুষ শিক্ষকের পেট পিঠ দেখেছেন? প্রতিবাদ কারী নিশ্চুপ। আলোচক মহিলা বললেন দেহ প্রদর্শন করা নির্লজ্জতা। কিন্তু এ কাজ টা সাধারনত পুরুষ রা করে না। আপনার যদি কখনো ইচ্ছে হয়, আপনার কোন পুরুষ সহকর্মী এর পেট পিঠ দেখবেন তাহলে তাকে আহবান করে বলতে হবে ভাই আপনার শার্ট বা পাঞ্জাবীটা একটু উপরে উটান, আমি আপনার পিট বা পেট একটু দেখবো। সে ভাই অবশ্যই আপনাকে পাগল মনে করবে। আর আপনার পেট পিট কতভাবে কত এ্যাংগেলে কত শত নারী পুরুষ দেখছে, তার কী কোন হিসাব আছে? পুরুষরা পেট পিট বের করে বাইরে বা অফিস আদালতে যাবে না। এটা তাদের স্বাভাবিক লজ্জা। যা থাকা উচিত ছিল মেয়েদের। অথচ ব্লাউজের মেয়েরা কিভাবে জামা বা গলাটা আরেকটু বড় করে কাধঁ ও বুকের উপরি অংশে বের করা যাবে। সে চেষ্টাই করে। এ পর‍্যায় বেচারা ভদ্র মহিলা একে বারে চুপ হয়ে গেল।

→ ইমাম আবু হানিফা রহ: এর সাথে কিছু নাস্তিকদের বিতর্ক ←

গল্পটি অনেক আগের। একবার একদল নাস্তিক ও তাদের নেতারা একজন বিখ্যাত মুসলীম নেতার ( ইমাম আবু হানিফা রহঃ এর সাথে বিতর্ক অনুষ্টানের জন্য আহবান জানালেন। যদিও ইমাম আবু হানিফা রহঃ বিতর্ক করার ব্যাপারে তেমন আগ্রহী ছিলেন না। তবুও তিনি রাজি হলেন। বিতর্কের বিষয় এই পৃথিবীর সব কিছু কারো সাহায্য ছাড়াই এমনিতেই তৈরি হয়েছে? নাকি হয়নি? অনুষ্টানের দিন সবাই উপস্তিত। শুধু মাত্র ইমাম আবু হানিফা রহঃ ব্যাতিত। সমলেই অপেক্ষা করছে ইমাম আবু হানিফা রহঃ এর জন্য। কেননা তিনি মুলত বিতর্ক করবেন মুসলীম দের জন্য। সকলেই অপেক্ষা করছেন। অথচ তার কোন দেখা নেই। একদিকে নাস্তিক রা মনে মনে খুশি হতে লাগলো। অন্যদিকে মুসলীমরা লজ্জাবোধ করছিলো তাদের নেতা অনুপস্থিত থাকার জন্য। অনেকেই দরে নিয়েছেন তিনি আর আসবেন না পরাজয়ের ভয়ে। একটি সময় সকলে সিদ্ধান্ত নিল অনুষ্টান শেষ করে দিতে হবে। ঠিক তখনই তিনি উপস্থিত হলেন। মঞ্চে উঠার পর সকলে থাকে জিজ্ঞেস করল কী কারনে আপনার আসতে এত দেরি হল। তিনি একটু চুপ থেকে বললেন আজ এক অবাক করার মত ঘঠনা ঘটেছে যা সত্যিই অবিশ্যাস্ব। আর একারনে আমার আসতে দেরি হয়ে গেল। সকলে ঘঠনা সম্পর্কে জানতে চাইলো। তিনি বললেন আমার ধারনা, তোমরা এই ঘঠনা জানার পর বিশ্বাস করবে না। অথবা আমাকে পাগল বলবে। এজন্য এই ঘঠনা আমি এই সমাবেশে বলতে চাই না। নাস্তিকদের দল নেতা বললেন, আপনার মত একজন বিজ্ঞ কখনও এমন এরকম কথা বলবে না, যাহার কোন গ্রহন যোগ্যতা নেই। নাস্তিক নেতা তাকে অনুরোদ করলেন ঘঠনাটি সকলকে বলতে। তার অনুরোধে মুসলীম পন্ডিত ইমাম আবু হানিফা রহঃ বলতে শুরু করলেন। আজ বাড়ি থেকে যখন নদীর গাটে পৌছেছি, তখন দেখি নদীতে কোন নৌকা নেই। আশে পাশে ও লোকজন নেই। আমি দীর্ঘ ক্ষন অপেক্ষা করছি নৌকার জন্য। হটাত একটি বিকট আওয়াজ করে একটি গাছ নদীতে পড়ল। তারপর ছোট ছোট টুকরো হতে লাগলো। আমি একটু অবাক হয়ে গেলাম। এরপর টুকরো গুলো একটি আরেকটির সাথে যুক্ত হতে লাগলো। কিছুক্ষনের ভিতর এটি একটি নৌকাতে পরিনত হল। অতঃপর নৌকাটি ধীরে ধীরে আমার ঘাটে আসতে লাগলো। আমি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। যেহেতু ঘাটে নৌকা ছিলো না তাই সাহস করে নৌকায় উটে পড়লাম। নৌকাটি নিজে থেকে চলতে লাগলো ও আমায় নদী পার করে দিল। তারপর আমি হেটে চলে আসলাম। আর এসব ঘটনা ঘঠছিলো অনেক সময় ধরে। তাই আমার আসতে দেরি হল। নাস্তিকদের সকলে হুহু করে হেসে উঠলো। মুসলীমরা সবাই কানাকানি শুরু করলো। নাস্তিকদের দলনেতা বলেই ফেললেন আপনাকে কেউ কিছু খাইয়ে দিয়েছে কিনা।? নাস্তিক নেতা বললেন এমনি এমনি এরকম কিছু হওয়া কী সম্ভব? আপনিতো পাগলের মত কথা বলছেন। তখন ইমাম আবু হানিফা রহঃ বললেন আমি না হয় একটা পাগল হয়েছি কিন্তু আপনারা নাস্তিকরা একত্রে পাগল হলেন কিভাবে? আমি শুধু একটি গাছ হতে নৌকা হতে বললাম। আর আপনারা বলছেন এই মহা বিশ্বের চাদঁ, সূর্য, পৃথিবী, গাছ পালা, পশু পাখি সব কিছু এমনিতে সৃষটি হয়েগেছে। আর এভাবেই ইমাম আবু হানিফা রহঃ বিতর্ক এর ইতি টানলেন।

Friday, April 17, 2015

→পিতার দোয়া ←

অনেক দিন আগে, এক বৃদ্ধ বাবা ও তার সন্তান উটের পিঠে চড়ে এক কাফেলার সাথে হজ্জ পালনের জন্য রওয়ানা দিলেন। মাঝ পথে হটাৎ ছেলেটির বাবা ছেলেকে বললেন তুমি কাফেলার সাথে চলে যাও, আমি আমার প্রয়োজন সেরে আবার তোমাদের সাথে যোগ দিব, আমাকে নিয়ে ভয় করনা; এইবলে লোকটি উট থেকে নেমে পড়লো। ছেলে ও চলতে লাগলো কাফেলার সাথে। কিছুক্ষন পর সন্দধা হয়ে এল, ছেলে আশে পাশে কোথাও বাবাকে খুজে পেলনা। সে ভয়ে উটের পিঠ থেকে নেমে উল্টা পথে হাটা শুরু করলো। কিছুক্ষন যাওয়ার পর সে দেখলো তার বৃদ্ধ বাবা অন্ধকারে পথ হারিয়ে বসে আছেন। ছেলে দৌড়ে বাবার কাছে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরলেন। অনেক আদর করে বাবাকে নিজ কাধে চড়ালেন, তারপর আবার কাফেলার দিকে রওয়ানা হলেন। বাবা বললেন আমাকে নামিয়ে দাও, আমি হেটেই যেতে পারবো। ছেলে বলল আমার কোন কষ্ট হচ্ছে না, তোমার ভার ও খোদার জিম্মাদারি উভয় টি আমার জন্য উত্তম। এমন সময় বাবা কেঁদে দিলেন এবং গড়িয়ে তা ছেলের মুখে পড়ল। ছেলে বলল বাবা কাদছো কেন? বললাম না আমার কষ্ট হচ্ছে না। বাবা বললেন আমি সে জন্য কাদছিনা, আজ থেকে ৫০ বছর আগে ঠিক এভাবে আমার বাবাকে আমি কাধে করে নিয়ে গিয়েছিলাম এ রাস্তা দিয়ে, আর বাবা আমার জন্য দোয়া করেছিলেন এই বলে যে, তোমার সন্তান ও তোমাকে এরকম ভালবাসবে। আজ বাবার দোয়ার বাস্তব রুপ দেখে চোখে পানি এসে গেল। ( বৃদ্ধ মা বাবাকে আপনি যেরকম ভালবাসবেন, ঠিক তেমন টাই আপনি ফেরত পাবেন আপনার সন্তান দের মাধ্যমে। তাই বলছি, নিজের সুখের জন্য হলেও মা বাবার যত্ন করুন। "রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সওয়াগিরা ")

→ মুসা (আঃ) এর লজ্জাশীলতা ←

হযরত আবু হোরায়রা ( রাঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন মুসা (আঃ) ছিলেন খুব লজ্জাশীল ও পর্দান শীল ব্যাক্তি। তার লজ্জাশীলতার কারনে তার দেহের কোন অংশ দেখা যেতনা। ফলে বনী ইসরাইলের লোকেরা তাইএ যা কষ্ট দেয়ার দিল। তারা বলল তার চামরায় কোন দোষ ত্রুটি থাকার কারনে তিনি এ পর্দা করেছেন। তার চামরায় কুষ্ঠরোগ বা তার মহামারিতে হারনিয়া রয়েছে কিংবা সে আক্রান্ত। অন্যদিকে আল্লাহ তায়ালা চান যে, তারা মুসা (আঃ) কে যা বলেছে তা থেকে তাকে মুক্ত করবেন। অতঃপর তিনি একাকি ( গোসলের জন্য) নির্জন এ গেলেন। অতঃপর তিনি তার কাপড় একটা পাথরের উপর রেখে গোসল করতে লাগলেন। অতঃপর তিনি গোসল ষেষ করে কাপড় নেয়ার জন্য পাথরের নিকট আসলেন। আর পাথর কাপড় নিয়ে দুরে সরতে লাগলো। অতঃপর তিনি লাঠি নিয়ে পাথর খুজতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন হে পাথর, আমার কাপড় হে পাথর, আমার কাপড়। অবশেষে বনী ইসরাইলের একটি দলের সামনে গিয়ে থামলো। ফলে তারা বস্ত্রহীন অবস্থায় দেখলো যে, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে কতই না সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি তাকে তাদের কথিত দোষ থেকে মক্তি করলেন। তারা বলল আল্লাহর কসম মুসা (আঃ) এর কোন রোগ ব্যাধি নেই। পাথর দাড়ালো। মুসা (আঃ) তার কাপড় পরিধান করলেন এবং পাথর কে তার লাঠি দিয়ে খুব প্রহার করলেন। আল্লাহর কসম তার আঘাতে পাথরে তিন চার বা পাচঁ টি চিহ্ন ছিল। আর এটাই প্রমান বহন করে আল্লাহর বানী, হে মুমিনগন যারা মুসাকে কষ্ট দিয়েছে,তোমরা তাদের ন্যায় হয়না। অতঃপর আল্লাহ তাকে তাদের কথিত অপবাদ থেকে মুক্ত করলেন, আর তিনি ছিলেন আল্লাহর নিকট মর‍্যাদাবান। ( বুখারী হা/২৭৮, ৩৪০৪, তিরমিযি হা/ ৩২২১, মিশকাত হা/ ৫৭০৯)

Thursday, April 16, 2015

→নিজে বদলাই সমাজ বদলে যাবে ←

দুই ধরনের মানুষ পৃথিবীতে আছে, মনে করেন আপনি রাস্তায় হোচট খেয়ে পড়ে গেলেন; একজন আপনার এই অবস্থা দেখে হাসবে অন্যজন আপনাকে হাত বাড়িয়ে দিবে উঠানোর জন্য। একটি মেয়েকে কয়েকটি ছেলে টিজ করছে; এখন একজন সেই দৃশ্য দেখে হাসবে অন্যজন প্রতিবাদ করবে। মনে করেন বাসের হেল্পারকে বিনা অজরে একজন থাপ্পর মারলো; একজন সেই দৃশ্য দেখে হেল্পারকে দোষারোপ করবে অন্যজন বুঝিয়ে বলবে থাপ্পর মারা ঠিক হয়নি। মনে করেন ৪ থেকে ৫ জন একজনকে মারছে একজন তা দেখে এড়িয়ে যাবে এবং বলবে খামাখা নিজেকে জড়াবো কেন অন্যজন মানুষ ডাকা ডাকি করে আপনাকে রক্ষা করবে। কেউ কলা খেয়ে কলার ছোবলা রাস্তায় ফেলে যাবে; তাতে পারা দিয়ে যদি কেউ পড়ে যায় তাহলে তা দেখে কেউ হাসবে আবার কেউ এটা রাস্তা থেকে কুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিবে। আসলে দুই জনই মানুষ, শুধু পার্থক্য হচ্ছে তাদের মানসিকতা। আসুন আমরা নিজ নিজ যায়গা থেকে পরিবর্তিত হই।

→ মানুষের পার্থক্য ←

দুই ধরনের মানুষ পৃথিবীতে আছে, মনে করেন আপনি রাস্তায় হোচট খেয়ে পড়ে গেলেন; একজন আপনার এই অবস্থা দেখে হাসবে অন্যজন আপনাকে হাত বাড়িয়ে দিবে উঠানোর জন্য। একটি মেয়েকে কয়েকটি ছেলে টিজ করছে; এখন একজন সেই দৃশ্য দেখে হাসবে অন্যজন প্রতিবাদ করবে। মনে করেন বাসের হেল্পারকে বিনা অজরে একজন থাপ্পর মারলো; একজন সেই দৃশ্য দেখে হেল্পারকে দোষারোপ করবে অন্যজন বুঝিয়ে বলবে থাপ্পর মারা ঠিক হয়নি। মনে করেন ৪ থেকে ৫ জন একজনকে মারছে একজন তা দেখে এড়িয়ে যাবে এবং বলবে খামাখা নিজেকে জড়াবো কেন অন্যজন মানুষ ডাকা ডাকি করে আপনাকে রক্ষা করবে। কেউ কলা খেয়ে কলার ছোবলা রাস্তায় ফেলে যাবে; তাতে পারা দিয়ে যদি কেউ পড়ে যায় তাহলে তা দেখে কেউ হাসবে আবার কেউ এটা রাস্তা থেকে কুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিবে। আসলে দুই জনই মানুষ, শুধু পার্থক্য হচ্ছে তাদের মানসিকতা। আসুন আমরা নিজ নিজ যায়গা থেকে পরিবর্তিত হই।

→ একটি ছোট গল্প ও আমাদের শিক্ষনীয় বিষয় ←

একদিন এক কৃষকের গাধা গভীর কুয়ায় পড়ে গেল। গাধাটা করুন সুরে কেদে কৃষকের দৃষ্টি কাড়তে লাগলো। কৃষক ভাবলো গাধাটা যেহেতু বৃদ্ধ হয়ে গেছে, কাজেই একে উদ্ধারের ঝামেলায় না গিয়ে মাটি ফেলে কুয়ার মাঝেই কবর দিয়ে ফেললে ল্যাটা চুকে যায়। কাজেই কৃষক শাবল দিয়ে মাটি ফেলতে লাগলো গাধাটার উপর। প্রথমে গাধা ঘঠনা আচ করতে পেরে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে লাগলো কিন্তু কিছক্ষন পর সব শান্ত হয়ে গেল। কৃষক এই নীরবতার কারন উদঘাটন করতে গিয়ে কুয়ার ভিতর উকি দিয়ে অবাক হয়ে গেলো। প্রতিবার যেই গাধাটার উপর মাটি ফেলা হয়েছে, সে তা পিঠ ঝাড়া দিয়ে ফেলে সেই মাটিতে ধাপ বানিয়ে একধাপ একধাপ করে বেশ খানিকটা উপরে উঠে আসছিলো। এটা দেখে কৃষক আরো মাটি ফেললো, এবং পরিশেষে গাধাটা কুয়া থেকে বেড়িয়ে আসলো।......... নীতি কথা : জীবন আপনার উপর শাবল ভর্তি মাটি ফেলবে এটাই স্বাভাবিক। আপনাত কাজ হচ্ছে সেই চাপা দেয়ার মাটিকেই কাজে লাগিয়ে উপরে উঠা। প্রতিটি সমস্যাই আসলে সমাধানের একটি করে ধাপ। যদি আপনি তা কাজে লাগানোর মত ইতিবাচক হয়ে থাকেন। যে কোন গভীর কুয়া থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব, যদি না আপনি হাল ছেড়ে দেন। জীবনে সুখী হওয়ার ৫টি সহজ নিয়ম, 1. অন্তর থেকে সকল ঘৃনা দুর করে সবাইকে ক্ষমা করে দিন। 2. মনকে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখা, বেশির ভাগ টেনশনের বিষয় গুলো বাস্তবে আসে না। 3. সাধারন ভাবে জীবন যাপন করা, নিজের যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। 4. নেয়ার চেয়ে বেশি দেয়া। 5. মানুষ থেকে কম কিন্তু সৃষ্টার কাছে বেশি কামনা করা।

→ শাফিক বালখী কতৃক বাদশাহ হারুনুর রশীদকে উপদেশ ←

একদা শাফিক বালখী বাদশাহ হারুনুর রশীদের ঘরে প্রবেশ করলে বাদশাহ তাকে বললেন, আপনি কী শাফিক জাহেদ? তিনি বললেন আমি শাফিক তবে জায়েদ নয়। বাদশাহ থাকে বললেন আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন আল্লাহ তায়ালা আপনাকে আবু বকর সিদ্দিকের আসনে বসিয়েছেন। অতঃএব তিনি আপনার থেকে অনুরোপ সত্যবাদীতা কামনা করেন। তিনি আপনাকে সত্য মিথ্যার পার্থক্য কারী ওমর ইবনুল খাত্তাবের আসনে বসিয়েছে। তাই তিনি আপনাকে তার মত সত্য মিথ্যার পার্থক্য কারী হিসেবে দেখতে চান। তিনি আপনাকে উসমান ইবনে আফফান এর মসনদে বসিয়েছেন। অতঃএব তিনি আপনার থেকে তার মত লজ্জাশীল ও দানশীলতা প্রত্যাশ করেন। তিনি আপনাকে বিজ্ঞ আলী ইবনে আবী তালীবের আসনে আরোহন করিয়েছেন। অতঃএব তিনি আপনার কাছ থেকে তার মত জ্ঞান ও লোকদের ন্যায় বিচার কামনা করেন, যেমন তার থেকেও কামনা করেছিলেন। বাদশাহ বললেন আপনি আরো কিছু উপদেশ দিন। তখন শাফিক বললেন হ্যা অবশ্যই দিবো। জেনে রাখুন, আল্লাহ তায়ালা জাহান্নাম নামক একটি ঘর নির্মান করেছেন এবং আপনাকে সে ঘরের দারোওয়ান নিযুক্ত করে তিনটি জিনিস দান করলেন। সেগুলো হল বায়তুল মাল, চাবুক ও তরবারী। অতঃপর নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আপনি এ তিনটি জিনিস দ্বারা আল্লাহর শ্রেষ্ঠ জীবকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করতে পারো। অতঃএব যেকোন অভাবী লোক আপনার নিকট আসলে তাকে বায়তুল মাল থেকে বঞ্চিত করনা। কোন ব্যাক্তি যদি তার প্রতিপালক আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে থাকে চাবুক দ্বারা আদব শিক্ষা দিবেন বা শায়েস্তা করবেন। কোন ব্যাক্তি অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করলে তাকে নিহতের অভিবাবকের অনুমতি ক্রমে তরবারী দারা হত্যা করবেন। আপনি যদি এই নির্দেশনা বলী বাস্তবায়ন না করেন তাহলে আপনি হবেন জাহান্নামিদের সরদার এবং এবং অধঃপতিদের সর্বাগ্রে অবস্থানকারী। খলিফা হারুনুর রশীদ বললেন আরো উপদেশ দিন। তখন তিনি বললেন আপনার দৃষ্টান্ত পানির ঝরনার মত, আর আলীম গন পৃথিবীর ছোট ছোট নদীর মত। যদি ঝরনার পানি স্বচ্ছ বা পরিস্কার থাকে তাহলে নদীর ঘোলাটে অস্বচ্ছ পানি আর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। পক্ষান্তরে ঝরনার পানি অসচ্ছ বা অপরিস্কার থাকে, তাহলে নদীর স্রোত কিংবা পরিস্কার পানি দ্বারা কোন ফায়দা হবে না।

→ অহংকারের ফল ←

এক পালোয়ান মল্ল যুদ্ধে খুব পারদর্শিতা অর্জন করেছিলো। মল্ল বিদ্যায় সে তিনশত ষাটটি কৌশল আয়ত্ব করেছিলো। নিত্য নতুন কায়দায় সে কুস্তি লড়তো। কাজেই সে সময়ে কোন কুস্তিগীর তার সাথে মল্ল যুদ্ধে জয় লাভ করতে পারতো না। তার বহু শিষ্য ছিলো। তার মাঝে একজন রুপে- গুনে অস্তাদের প্রিয় পাত্র ছিলো। দূরদর্শী ওস্তাদ তাকে তিনশত উনষাট টি কৌশল শেখান, একটা বিশেষ কৌশল শেখালেন না থাকে। সেই যুবক অল্পদিনে শক্তি সামর্থ্য কলা কৌশলে এমন খ্যাতি অর্জন করতে লাগলো যে, সেই সময়ের কোন পাহলোয়ান তার সাথে মোকাবেলা করার সাহস পেতনা। যুগের শ্রেষ্ট কুস্তিগীর উপাধী পাওয়ায় তার মনে অহংকার মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। এমন কি একদিন, বাদশাহর সামনে গল্প দিয়ে বসলো যে, আমার উস্তাদ যার কাছে আমি কুস্তি শিখেছি, শিক্ষা গুরু হিসাবে তিনি আমার চাইতে বড় ও সম্মানের পাত্র হতে পারেন বটে, কিন্তু শক্তি ও কলা কৌশলে আমি তার চাইতে কম না। বাদশার কাছে কথাটি যুক্তিহীন মনে হল। তখনি তিনি প্রতিযোগিতার আদেশ দিলেন। প্রতিযোগিতার জন্য একটি বিরাট মাঠ নির্বাচন করা হল। ওস্তাদ ও ছাত্রের প্রতিযোগিতা দেখার জন্য দেশের বিশিষ্ট ব্যাক্তি বর্গ ও সেখানে হাজির হল এবং প্রতিযোগিতা শুরু হল। উস্তাদ জানতেন, যুবক শিষ্যের শারীরিক শক্তি তার চাইতে বেশি। তাই তিনি তার শিষ্যকে নতুন কৌশলে আক্রমন শুরু করলেন। সেই নিয়ম ছাত্রকে না জানিয়ে গোপন রেখেছিলেন। কাজেই সে নিরুপায় হয়ে পড়লো। উস্তাদ থাকে দুই হাত দিয়ে মাথায় উটিয়ে মাটিতে ফেলে দিলো। উস্তাদ বিজয়ের মুকুট মাথায় পড়ে নিলেন। বাদশাহ উস্তাদ কে মুল্যবান পুরস্কার দিলেন। এর পর ছাত্রের অহংকারের জন্য তিরস্কার করে বললেন, তুমি একটা নির্বোধ ও বেয়াদব। তাই নিজের উস্তাদের সাথে সমকক্ষতার দাবি করতে লজ্জা বোধ করেনি। তাই বোকার মত লড়াই করলে এবং পরাজিত হলে। ছাত্র বিনীত ভাবে বলল হে বাদশাহ, উস্তাদ গায়ের জুরে আমার সাথে পারতেন না। কিন্তু কি করব কুস্তি বিদ্যার সকল কৌশল আমায় শেখানো হয়নি। তিনি কিছু কোশল গোপন রেখেছিলেন। আমার অজানা সেই কৌশল দিয়ে জয়লাভ করলেন। উত্তরে উস্তাদ বললেন হ্যা বাবা এই দিনের জন্য তা যত্ন করে রেখেছিলাম। নইলে আজ তুমি আমার সুনাম বরবাদ করে দিতে। ( নীতি কথা : বন্ধুকে ভালবেসে এতো শক্তি শালী কর না যেন সে যদি কখনো শত্রতা করে বসে তবে তুমি পরাজিত হও। (শেখ সাদি))

→একটি বাচার গল্প ←

একটা ব্যাঙ গর্তের মধ্যে পড়ে গেছে। অনেকক্ষন উঠার চেষ্টা করেও কিছুতেই উঠতে পারছে না। এসসময় একটা শিয়াল সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। ব্যাঙ এর চিৎকার শুনতে পেরে সে গর্তের কাছে আসলো। শিয়াল ঃ কি হয়েছে ব্যাঙ মামা; ব্যাঙ ঃ না, কিছুনা। গান গাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। শিয়াল ঃ ও, আমি মনে করছিলাম তুমি মনে হয় বিপদে পড়েছো। এর পর ব্যাঙ কিছু বলার আগেই শিয়াল সেখান থেকে চলে গেল। ( নীতি কথা এই বোকার সাথে ফাইযলামি করতে গেলে বিপদ আরো বাড়বে।) ব্যাঙ ভাবলো শিয়াল তার বিপদের বিষয় বুঝতে পেরেছে তাই কিছু আনতে গেছে এজন্য ব্যাঙ চুপ করে বসে রইল শিয়ালের অপেক্ষায়। কিন্তু এই ফাকে তিন টি হরিন সেখান দিয়ে চলে যায় ( নীতি কথা এই বিপদে পড়লে কখনো একজনের উপর নিরভ্র করা উচিত না) কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর একটি সিংহ সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। সিংহের পায়ের আওয়াজ পেয়ে ব্যাঙ টি আবার চিতকার শুরু করলো। চিতকার শুনে সিংহটি তার কাছে ছুটে এলো। সিংহ ঃ কি হয়েছেরে তোর? ব্যাঙ ঃ মামা ভুল করে গর্তে পড়ে গিয়েছি। সিংহ ঃ তোদের নিয়ে আর পারি না। কই চলার সময় রাস্তা দেখে হাটবি নাকি চোখ যে কই রাখিস। ব্যাঙ ঃ মামা ভুল হয়ে গেছে। সিংহ ঃ দাড়াঁ দেখি সাহায্য করতে পারি নাকি। এর পর সিংহটি তার লেজ নিচে নামিয়ে দিল। যদিও তার লেজের দৈর্ঘ্য তার হাতের কম ছিল। ব্যাঙ টি লাফ দিয়েও লেজটি ধরতে পারে না। ব্যার্থ হয়ে সিংহ চলে যায়। কিন্তু কিছুক্ষন পর ব্যাঙ আবার কার শব্দ শুনতে পেল। হটাৎ সে দেখতে পায় যে বিশাল বপুর সিংহ আকাশের দিকে তাকিয়ে হাটতে হাটতে এসে সে সোজা গর্তের মাঝে পড়ে যায়। ব্যাঙ ঃ মামা, হটাৎ এখানে? সিংহ ঃ আরে বলিস না, একটা সুন্দর পাখি দেখছিলাম। ব্যাঙ ঃ তো এখানে কেমন করে? সিংহ ঃ খেয়াল করি নাই যে এখানে গর্ত ছিলো। ( নীতি কথা এই নিজে যা তা অন্য কাউকে বলনা) ( নীতি কথা এই আকাশে উড়ার চেষ্টা করলে ভুপাতিত হইবে।) এরপর ব্যাঙ টি লক্ষ করলো যে সিংহ মামা পড়ায় সে এখন তার উপর উঠলে আরেকটু উপরে উঠতে পারবে। ব্যাঙ ঃ তোমার মাথায় ময়লা মামা। সিংহ কইরে? কিছুইতো বুঝতে পারতাসিনা। ব্যাঙ ঃ দাও মামা আমি পরিস্কার করে দেই। এই বলে সে সিংহের মাথায় উঠে লাফ দিয়ে সে গর্তের বাইরে চলে যায়। ( নীতি কথা এই উপস্তিত বুদ্ধি থাকলে যে কোন পরিস্তিতি থেকে বের হওয়া যায়) ( নীতি কথা এই অক্ষম ও অনেক সময় অনেক কাজে সাহায্য করতে পারে যা কখনো সক্ষমেরাও পারেনা।) ব্যাঙ বের হয়ে এল। কিন্তু সে তার বিপদের সঙ্গিকে ভুলে গেলনা। সে বনের ভেতর থেকে জিরাফ মামাকে নিয়ে এলো। জিরাফ মামা তখন সিংহ মামাকে গর্ত থেকে বের করে নিয়ে আসলো। তার পর সবাই সুখে বনে বাস করতে লাগলো। ( নীতি কথা এই জীবনে যত কষ্ট আসুক যত বিপদে পড়েন না কেন হতাস হবেন না অপেক্ষা করুন নতুন করে বেচে উঠবেন।)

→ আল্লাহ কে ভয় করার পুরস্কার ←

জৈনেক দরীদ্র এক ব্যাক্তি মক্ষায় বাস করতো। তার ঘরে সতী সাদ্ধী স্ত্রী ছিলো। একদিন স্ত্রী থাকে বললো, হে আমার স্বামী! আজ আমাদের ঘরে কোন খাবার নেই। আমরা এখন কী করবো। একথা শুনে লোকটি বাজারের উদ্যেশ্যে কাজ খুজতে বেড়িয়ে গেল। অনেক খুজা খুজির পর সে কোন কাজ পেল না। একসময় সে ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে মসজিদে গমন করলো। সেখানে সে দু'রাকাত সালাত আদায় করে স্বীয় কষ্ট দুর করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করলো। দোয়া শেষে মসজিদ চত্বরে এসে একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখলো এবং সেটা খুলে এক হাজার দিরহাম।পেয়ে গেলো। ফলে তা নিয়ে লোকটি আনন্দ চিত্তে গৃহে প্রবেশ করলো। কিন্তু স্ত্রী উক্ত দিরহাম গ্রহনে অস্বীকৃতি জানিয়ে বললো অবশ্যই আপনাকে এ সম্পদ তার মালিককে ফেরত দিয়ে আসতে হবে। ফলে সে পুনরায় মসজিদে গিয়ে দেখতে পেল যে, একব্যাক্তি বলছে কে একটি থলি পেয়েছে যেখানে একহাজার দিরহাম ছিলো। একথা শুনে সে এগিয়ে গিয়ে বলল আমি পেয়েছি, এই নিন আপনার থলিটি। আমি এখানে এটি কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। একথা শুনে লোকটি তার দিকে দীর্ঘ ক্ষন থাকিয়ে বললো ঠিক আছে ব্যাগটি আপনিই নিন তার সাথে আরো নয় হাজার দিরহাম নিন। একথা শুনে দরীদ্র লোকটি বিস্মিত হয়ে তার দিকে থাকিয়ে রইলো। তখন লোকটি বলল সিরিয়ার জৈনেক ব্যাক্তি আমাকে দশ হাজার দিরহাম দিয়ে বলেছিলো যে,এর মধ্য থেকে একহাজার দিরহাম আপনি মসজিদে ফেলে রাখবেন এবং কেউ তা তুলে নেওয়ার পর আহবান করতে থাকবেন। তখন যে আপনার ডাকে সাড়া দিবে আপনি থাকে সম্পূর্ণ দিরহাম দিয়ে দিবেন। কেন না সেই হল প্রকৃত সৎ ব্যাক্তি। এই গল্প ধারা এটি প্রতিয়মান হল যে আল্লাহকে ভয় করবে আল্লাহ তার সাথে থাকেন।

→ শিক্ষনীয় তিনটি বিষয় ←

১| একদিন একটি গ্রামের গ্রামবাসী মিলে সিদ্ধান্ত নিলো, তারা বৃষ্টির জন্য সৃষ্টার কাছে দোয়া করবে। সবাই সমবেত হলো, কিন্তু একটি ছেলে ছাতা সহকারে এলো, কারন তার বিশ্বাস দৃঢ় ছিল। ২| আপনি যখন একটি শিশুকে নিয়ে শুন্যে ছুড়েঁ খেলা করবেন, সে তখন হাসতে থাকে কারন সে জানে আপনি থাকে আবার ধরে ফেলবেন। এটাই হচ্ছে ভরসা। ৩| প্রতি রাতে আমরা যখন ঘুমাতে যাই, কোন নিশ্চয়তা নেই যে আমরা পরের দিন আবার জেগে উঠবো, তবুও আমরা পরের দিনের জন্য এলার্ম দিয়ে রাখি। কারন এটাই হচ্ছে আমাদের আশা। কাজেই সৃষটি কর্তার উপর আশা, ভরসা, এবং বিশ্বাস রাখুন। এগুলো আমার কথা নয় একটি ইংরেজী এডভাইস হিস্ট্ররি থেকে নেয়া। বাবর চৌধুরী

→ নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস ←

একবনে এক কাক বাস করতো। কাকটি তার জীবন নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট ছিলো। কিন্তু একদিন সে একটি রাজহাঁস দেখতে পেল...... কিন্তু কথায় আছে, " নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস ওপারেতে সর্ব সুখ আমার ও বিশ্বাস"। কাকটি ভাবলো আহা! রাজহাঁস কতইনা সুন্দর! নিশ্চয়ই সে এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী পাখী। কাকটি তার এই ভাবনার কথা রাজহাঁস কে জানালো। রাজহাঁস জবাব দিলো " আসলে আমিও ভাবতাম, আমি এখানকার সবচেয়ে সুখী পাখি; যতক্ষন না আমি একটি টিয়াকে দেখলাম.... টিয়ার গায়ে আছে দুধরনের রং। তাই আমি এখন মনে করি সৃষ্টির মাঝে টিয়াই একমাত্র সুখী পাখি। কাক এরপর গেল টিয়ার কাছে। টিয়া তাকে বললো আমিই ছিলাম সবচেয়ে সুখী, যতক্ষন না আমি ময়ূরকে দেখতে পেলাম...... আমার গায়ে তো মাত্র দুটি রং, আর ময়ূরের শরীরে কত রংয়েরই না সমাহার। কাক এর পর গেল চিড়িয়া খানায় ময়ূরের সাথে দেখা করতে। সেখানে সে দেখতে পেল ময়ূরকে দেখতে শত মানুষ ভিড় করছে। সবাই চলে যাওয়ার পর, কাক ময়ুরের কাছে গেলো। - ও ময়ুর তুমি দেখতে কতইনা সুন্দর! তোমাকে দেখতে প্রতিদিন হাজার মানুষ ভিড় জমায়। আর আমি, আমাকে দেখলে মানুষ দুর দুর করে তাড়িয়ে দেয়। তুমি নিশ্চয় জগতের সবচেয়ে সুখী পাখি? আমিও ভাবতাম, আমি বোধহয় এই গ্রহের সবচেয়ে সুখী ও সুন্দর পাখী। কিন্তু এই সৌন্দর্য এর কারনে আমায় খাচায় বন্দী করে রাখা হয়েছে। আমি এই চিড়িয়া খানা খুব ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং বুঝতে পেরেছি, কাকই হল এমন একটি পাখি যাকে কখনো খাচায় বন্দী করে রাখা হয়না। তাই গত ক'দিন থেকে ভাবছি, ইশ - আমি যদি কাক হতাম তাহলে তাহলে যেখানে খুশী বেড়াতে পারতাম। এটাই হল আমাদের সমস্যা, আমরা অহেতুক অন্যদের সাথে নিজেদের তুলনা করি আর অযথা কষ্ট পাই। আল্লাহ আমাদের যা দিয়েছেন আমরা তার কোন গুরোত্ব দেই না। এভাবে আমরা সকলের দুঃখের দোষ্ট চক্রে পড়ে ঘুরপাক খেতে থাকি। তাই সৃষ্টা আপনাকে যা দিয়েছেন, তার গুরোত্ব দিয়ে, সুখী হওয়ার গোপন রহস্য টা বুঝতে শিখুন, আর অহেতুক অন্যদের সাথে তুলনয় নিয়ে নিজে অসুখী হওয়াকে দুরে ছুড়ে ফেলে দিন।